আমার নাম মোঃ মর্তুজা খান।ছোট বেলা প্রাইমারি জীবন কাটায় নওপাড়া খানপল্লী স্কুলে।পরে প্রাইমারি শেষ করে মাধ্যমিক শুরু করলাম বাগান ইসলামিয়া স্কুলে। মাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হলাম জাতীয় কবি নজরুল কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে। আর নজরুল কলেজ থেকে পাশ করে এখন আছি জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এর EEE বিভাগে... পরে জানিনা কোথায় -------- কি হবে ------- আমার জীবনে।সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই । ★এসো কলম ধরি নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়ি★ সত্য বলার দায়িত্ব বক্তার,আর বিশ্বাস করার দায়িত্ব শ্রোতার! তাই বলে সব সত্য হলেই বলতে নেই,জীবনের কঠিন বাস্তবতা থেকে শিখেছি!!! বই পড়তে ভাল লাগে। গর্ভধারিণী (সমরেশ) দিয়েছিল নতুন জীবন। আকর্ষণীয় ভাল লাগা কড়ি দিয়ে কিনলাম(শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব বই খানা) আজও মনে স্থান করে আছে। থাকি একটি অপ্রত্যাশিত কলের প্রত্যাশায়!!! জীবনের কঠিন প্রহরেই শিক্ষকতা করেছি নিজের স্কুলেই। আর এখন আছি ভিন্নরকম একাডেমিক কেয়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং শিক্ষক হিসাবে। ==> https://mobile.facebook.com/ভিন্নরকম-একাডেমিক-কেয়ার-বাগান-219264795075296/?ref=opera_speed_dial ====>>> ==>> না পড়লে বুঝবেন না জীবন কাকে কয়??? ★★★★★★★★★★★★★★ শেষ হয়ে যাচ্ছে ভিন্নরকম। মাফ করে দাও প্রিয় ফেইসবুকের বন্ধুরা। অনেক সাধনার ভিন্নরকম মর্তুজা কেন যেন বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় আছে।ভিন্নরকম আর ধরে রাখতে পারব কিনা তাই সন্দেহে আছি।আমি চাই পরিবার ও সমাজ কে কিছু দিতে কিন্তু একা দ্বারা তো সম্ভব নয়।পাশে সহযোগী ছাড়া এগিয়ে যাওয়াটা খুবই কষ্টকর।যে স্বপ্ন গুলো ছিল মনে মনে তা সময়ের স্রোতে বিলিন হওয়ার অপেক্ষা প্রায়।জীবন আসলেই যুদ্ধ ক্ষেত্র।কেউ চায় বড় হতে বা কেউ চায় নিজের স্বার্থ দেখতে বা কেউ চায় সমাজ কে পরিবর্তন করতে বা কেউ মানুষের কাছ থেকে সুবিধা নিতে চায় কিন্তু দিতে চায় না। এটাইতো পৃথিবী। উচ্চ মাধ্যমিকের বাংলা বইে বিলাসি গল্পে লেখকেরর - মা-বাবার নাম মৃত্যুঞ্জয় অবশেষ মিথ্যা প্রমানিত হয় তেমনি ভাবে আমার নিজের নাম ভিন্নরকম মর্তুজা মনে হয় শেষে মিথ্যা প্রশাণিত হতে পারে বলে আমি মনে করি।যেমন নাম তেমন কর্ম আমার।আর্থিক অনটনের কারণে আমাকে প্রথমে মাদরাসায় ভর্তি করানো হয় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে কারণ সেখানে আমার বেতন ফ্রী ছিল। কিন্তু আমি আরবি কম পাওয়ার কারনে মন টিকলো না মাদরাসায়।রায়হান কাকার সহায়তায় ভর্তি হয় চেলেরঘাট কিন্ডারগার্টেনে ৬ ষ্ঠ শ্রেণিতে। যেখানে শিক্ষার্থী ছিল চারজন কিন্তু সবশেষে শিক্ষার্থী ১ জন - তা শুধু আমি। পরিবারের সম্পূর্ণ খরচ বহন করতেছিল আমার বড় ও মেজো বোন।লেখাপড়া প্রায়ই বন্ধ হতে যাচ্ছেছিল আমার কিন্তু রায়হান কাকা ও মোখছেদ স্যারের সহায়তায় আমাকে ভর্তি করানো হয় বাগান স্কুলের ৭ম শ্রেণীতে। যেখানে আমার বেতন ছিল হাফ।নিজের মত করে পড়ে ৮ম শ্রেণিতে উঠি রোল নং দুই হিসাবে। যা হোক অষ্টম শ্রেণীতে আমার ক্লাসের বেতন একদম ফ্রী হয়।তখন খেলাধুলা প্রচন্ড নেশা ছিল। প্রতিদিন ক্রিকেট খেলতাম। এই খেলার নেশায় পড়ে ৮ম শ্রেণির ৬ মাস কেটে গেলো আমার। তারপর স্যার রা বলে আমাদের JSC পরিক্ষা দিতে হবে। এইটা নতুন নিয়ম - এবার থেকেই হবে। পড়ে গেলাম ভিষণ চিন্তায়। পড়লাম না কিছুই কিন্তু নতুন নিয়মে পরিক্ষা দিতে হবে তারপরও কি একদিনে দুই পরিক্ষা। অনেক কষ্ট করে পরিক্ষা দিলাম কিন্তু রেজাল্ট হয়ে গেল খারাপ। আমি পাইলাম ৩.৭৯। যা স্কুলের ৩য় পজিশন। নবম শ্রেণীতে আমার রোল হলো তিন।রেজাল্ট খারাপ পড়াশুনা তেমন একটা হচ্ছে না তেমন একটা মনে ধারণা।নবম শ্রেণীতে আবার মন দিয়ে লেখাপড়া করতে শুরু করলাম। পেলাম শ্রদ্ধেয় স্যার প্রদীপ চন্দ্র বিশ্বাস এর সহায়তা এবং অনুপ্রেরণা তার এই সাহসে দশমে আমার রোল হলো দুই।তখন আমার পরিবারে চলছিল চরম দারিদ্রতা যা বলা বাহুল্য।স্কুলের ইউনিফর্ম কেনার মতো সাধ্য ছিল না আমার পরিবারের। এলাকার বড় ভাইদের ইউনিফর্ম পরিধান করেছি নবমে।দশমে উঠে আমাকে দাদির মাননো নতুন ইউনিফর্ম পায়।প্রদীপ স্যার কে তেমন টাকা দিতে পারি নাই আমি।কিন্তু স্যার কোনো দিন টাকার জন্য আমাকে কিছুই বলে নাই।একটা না দুই টা না বরং চারটা বিষয় পদার্থ, রসায়ন,গণিত ও উচ্চতর পড়াতেন শ্রদ্ধেয় স্যার।স্যার প্রতিটি সময় আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে যা বলা বাহুল্য।যে কোন সময় স্যারকে বললে স্যার আমাকে সময় দিত। সব সময় স্যারের পাশেই থাকতাম। স্যার ও আমার অনেক পরিশ্রম করার পরও আমার আবারর SSC তে রেজাল্ট খারাপ হলো। স্বপ্ন যেন আমার ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। SSC আমার রেজাল্ট হলো ৪.৮৮। এত পরিশ্রম করাও পর আমার রেজাল্ট খারাপ হলো।এই চিন্তা আমায় যেন হতাশার গহ্বরে ফেলে দিলো।আমার ধারণা ছিল আমি যেন উঠতে পারবো না। কিন্তু পরিবারে ও স্যারদের সান্ত্বনা এবং নিজে বিজয় আনতে হবে এই ভেবে ভর্তি হয়লাম নজরুল কলেজে বিজ্ঞান শাখায়। সেখানেও পেলাম উদার মনের স্যার ইয়াহিয়া, রাকিব ও মোয়াজ্জাম। তাদের সহায়তায় এইচ. এস. সি পরিক্ষা দিলাম কিন্তু সেখানেও আমার রেজাল্ট খারাপ ৪.১৭। কিন্তু ছাত্র হিসাবে খারাপ ছিলাম না। স্বপ্ন তখন পড়বো ঢাকা ভার্সিটিতে সেই আশায় ভর্তি হয় #UDVASH কোচিং এ(ময়মনসিংহ)। কোচিং করতে প্রচুর টাকা লাগলো এবং ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা ভার্সাটি পরিক্ষা দিলাম কিন্তু স্বপ্ন পূরণ হলো না। সিরিয়াল আসলো ১২০০০ তম। স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলো। এভাবে JNU, CU, SUST, KNU & MBSTU পরিক্ষা দিয়ে কিছু হতাশার গহ্বর অর্জন করলাম। যা প্রতিক্ষণ জ্বালা দিতেছিল কেন আমি পারতেছিনা সফলতার মুখ দেখতে। সব আশা নিরাশ হয়ে গেলো কারণ জাতীয় ভার্সাটি ফর্ম তুলি নাই। আমার একটা বছর কেমনে কাটামো ভাবতেছিলাম তখন। এতো পড়াশুনা ভাল লাগে??? কিন্তু পড়তে যে হবেই আমায়-এমন পণ ছিল মনে।হঠাৎ করেই শুরু হলে মনে নিজেকে কিছু করতে হবে কারণ আর কত সংসারের বুঝা হবো আমি। মনে মনে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম মিলন কে নিয়ে রাগামায় প্রাইভেট পড়ামো সামসু ভাই এর সহায়তায় আল মদিনা কিন্ডারগার্টেনে। কিন্তু তা হলো না। তখন আমার কেন চিন্তা আসে ভিন্ন ভিন্ন। তাই ফেইসবুকে নাম রাখলাম ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বরে ভিন্নরকম মর্তুজা। সেই থেকে আমার নাম ভিন্নরকম মর্তুজা হলো। পারিবারিক দারিদ্র্যতার কারনে আমি জানুয়ারি থেকেই চেলেরঘাট স্কুলে শিক্ষকতা করি সিদ্দিক কাকার প্রেরণায়।কিন্তু স্বপ্নবাজ আমি স্বপ্নই দেখি। নিজের সবোচ্চ চেষ্টায় বন্ধু ফখরুল ও দেলোয়ার সহায়তায় মিলন ও আশিক উপস্হিতে ২০১৬ সালে জানুয়ারি শেষে বাগান আলিম মাদরাসার মাঠে সিদ্ধান্ত নেয় আমরা একটা কোচিং করবো এবং তাতে অনেক মত হয় আবার কিছু বন্ধু নারাজ। কয়েক আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় কোচিং হবেই। বিনিয়োগ করলাম আমি ও দেলোয়ার বন্ধু।যত দৌড়া দৌড়ি করলাম দুজনেই। জায়গা নিলাম বিদ্রোহী কিন্ডারগার্টেনে। অবশেষে ২০১৬ সালে ফ্রেবুয়ারিতে শুভেচ্ছা ক্লাসে উপস্হিত ছিলাম দেলোয়ার, ফখরুল, আমি ও মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থী। আশা তখনো আমি ছাড়ি নাই।আমরা সফল হমোই। তারপর মিলন, ফখরুল, দেলোয়ার, আশিক বন্ধুদের নিয়ে চলতে শুরুকরলাম ভিন্নরকম যাত্রা।এদিকে আমি ফ্রেবুয়ারি থেকে টানা সকাল ৬ টা থেকে ২.৩০ পর্যন্ত স্কুলের শিক্ষকতা এবং ৩ থেকে ৫ টা পর্যন্ত সময় কোচিং ক্লাস নেওয়া এবং তারপর বাড়িতে আসা। রাতে বাড়িতে এসে আবার টিউশনি।তারপর আমার পড়া। এভাবে একধারে কেটে গেলো পাচ মাস। কোনোদিন একটু সময় পায় না খেলতে সারাক্ষন পড়ানি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হচেছ আমার। হঠাৎ হিমেল নামক বন্ধু কল দিয়ে বলতেছে আমায় আবার HSC পরিক্ষা দিতে। যাতে পয়েন্ট বাড়তে পারে। স্বপ্ন দেখতে শুরুকরলাম A+ এর। অবশেষে হিমেল বন্ধুর সহায়তায় পরিবারকে না জানিয়েই পরিক্ষা দেওয়ার জন্য পুনরায় ফর্মকিলাপ করলাম। জীবনে হয়ে গেলো রোবটেরর মতো। চেলেরঘাট স্কুলে শিক্ষকতা,রাগামারায় কোচিং এবং আমার নিজের পড়াশুনা সবকিছু অত্যান্ত পরিশ্রম সহিত করিছি। কোনোদিন নিজের ইচ্ছায় বাদ দেয় নি স্কুলের, কোচিং এর কাজ-- আমি। যা জানে স্কুলের প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মন্ডলী এবং কোচিং শিক্ষার্থী ও বন্ধুরা। HSC আবার পরিক্ষা দিলাম। পরিক্ষার সময় স্কুল, কোচিং সব কিছুই ধরে রেখেছি পরিশ্রমের সহিত। স্বপ্ন নিয়ে চলতে চলতে ভার্সাটি নামক পরিক্ষা চলে আসে।এমন সময় ভিন্নরকম কোচিং একটু সমস্যা হওয়ার আমি ও মিলন আবার জায়গা পরিবর্তন করে সেখানে শুরু করি ভিন্নরকম একাডেমিক কেয়ার।যা এখনো আছে আশা করি আজিবন থাকবে আমার ও মিলনের সহায়তায়। দারিদ্রতার কারণে কোচিং ছাড়তে পারি নাই এবং ভার্সাটি চান্স পেতেই হবে এই টার্গেট নিয়ে দুই বন্ধু বাড়ি ছাড়লাম এবং অাশ্রয় নিলাম ভিন্নরকম একাডেমিক কেয়ারে। নিজেরা পড়তে লাগলাম এবং কোচিং ও চালালাম আমারা।HSC রেজাল্ট দিল এবার আসলো ৪.৮৩। মোটামোটি ভালই রেজাল্ট। দুজনে পরামর্শ করে পড়ে, আমরা দুইজনেই ভার্সাটি চান্স পেয়েছি। আমি হয়েছি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে Electronics & Communication Engineering (E.C.E) এবং মিলন বাংলা বিভাগে। আজ আমার পরিবার, সমাজ, স্যার, শিক্ষার্থী সবাই খুশি। আজ আমার পরিশ্রম কি সফল?? তা আমি মনে করি না এখনো আমার অনেক দায়িত্ব রয়েছে এবং অনেক স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। যার জন্য আমার আরও পরিশ্রম করতে হবে। চলো স্বপ্ন ছুঁই......ভিন্নরকম মনে। মনে হয় তেমন একটা ভালো কাজ করতে পারি নাই কুঁড়ি বছরে। অনেক মানুষের সাথে চলেছি আমি স্কুল লাইফ থেকে শুরু করে কলেজ লাইফ পর্যন্ত। জানিনা কোনো কু- কথা বা বা কু-কর্ম বা খারাপ আচরণ করলে আমায় মাফ করে দিও। ক্ষমাই মহত্ত্বের লক্ষণ। আমার জানা মতে আমার দ্বারা কোনো মানুষের /শিক্ষার্থীর ক্ষতি হোক তা আমি চাই নায় এই কুঁড়ি বছরে। আমি কোন কাজ কে অবেহেলায় দেখি নায় স্কুল থেকে কলেজ লাইফ পর্যন্ত।সবার মত আমি না, তাই শখ করে নাম রেখেছিলাম ভিন্নরকম মর্তুজা। দোয়া চায় সবার কাছে যেন... নাম টা ধরে রাখতে পারি এবং সমাজ ও পরিবার বর্গকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারি...........
Recent posts
Subject Review – EEE
সবাই নাম শুনেছে। ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং। তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল। যা ইলেক্ট্রন নিয়ে আলোচনা করে। নামের মধ্য দিয়েই সাবজেক্ট সম্পর্কে হালকা ধারণা পাওয়া যায়। সরাসরি চলে যাচ্ছি সাবজেক্ট রিভিউতে।সবচেয়ে পুরনো এবং প্রচলিত ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলোর মধ্যে ইইই অন্যতম আভিজাত্যের অধিকারী। আশেপাশের চারদিকে ইলেক্ট্রনিক্সের বিপ্লব দেখে নিশ্চয়ই এই সাবজেক্ট পড়ুয়াদের গুরুত্ব বা চাহিদা আগ বাড়িয়ে বলে দিতে হবে না?
তোমার এইচএসসিতে প্রিয় বিষয় কি ছিলো? উত্তর যদি হয়ে থাকে Math বা Physics তাহলে তোমার EEE পড়া নিয়ে কোন ভয় নেই। তুমি নিঃসন্দেহে এখানে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে। তোমার যদি Equation Solve করতে মজা লাগে, ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের বিদ্যুতের চ্যাপ্টারগুলো যদি তোমার কাছে অসহ্য না লাগে, তাহলে ইইই তোমাকে হতাশ করবে না কোনদিন। সার্কিট নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে মজা লাগে? রোধের সমান্তরাল সন্নিবেশ, হুইটস্টোন কার্শফের অঙ্ক করতে ভালো লাগে? আবারো বলবো ইইই নাও।
তোমার যদি উদ্ভাবনী ক্ষমতা থাকে, আর থাকে লেগে থাকার ইচ্ছা তবে তুমি ইইই পড়ে অনেক বড় কিছু করে দেখাতে পারবে। প্রকৌশলিক invention সবচেয়ে চমকপ্রদভাবে দেখানোর উপযুক্ত জায়গা হলো ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং। আপাতদৃষ্টিতে দেখতে যেমন মনে হয়, ইইই আসলে তেমন ছোট পরিসরের কোন সাবজেক্ট না। এর পরিধি ব্যাপক, ক্ষেত্র অসীম।
ইইই এর সাবডিসিপ্লিনগুলো লক্ষ্য করো-
1.Power
2.Electronics
3.Telecommunication
4.Computers
Power সেক্টরের ব্যাপারটা মনে হয় সবাই এমনিতেই বুঝতে পেরেছে। যারা বিদ্যুত উৎপাদন আর সরবরাহের দায়িত্বে থাকে। এই সেক্টরের চাহিদা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই মুহুর্তে প্রচুর। চাহিদা পুরনের জন্য প্রতি বছরই নতুন নতুন বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও চলছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। আর এই সেক্টরের পুরো দায়িত্বই থাকে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে। যারা নিজেকে একজন Power management engineer হিসেবে দেখতে চাও, তারা নিঃসঙ্কোচে EEE নিতে পারো।
Electronics নিয়েও সবাই হালকা পাতলা কিছু জানে। Resistor, Capacitor, Inductor এসবের নাম তোমরা শুনে এসেছ। এখনকার
সময়ে তোমরা যত ডিভাইস দেখ, তার বেশিরভাগই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট দিয়ে ডিজাইন করা। স্মমার্টফোন, আইপ্যাড, নোটপ্যাড, ল্যাপটপ সবগুলোই ইলেক্ট্রনিক্সের অবদান। Micro controller এর নাম হয়তো কেউ কেউ শুনে থাকবে। যা রোবটিক্স নিয়ে পড়াশোনার ব্যাপক ইচ্ছা যাদের, তাদের জন্য micro controller হলো একেবারে শুরুর ধাপ। তবে হ্যা, এদিক দিয়ে আগাতে হলে অবশ্যই পরিশ্রমী আর উদ্যমী হতে হবে। যাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বেশি, বিস্তর ইচ্ছা আছে এই rapidly running টপিক নিয়ে পড়াশোনা করার, তার জন্য EEE’র দরজা সদা উন্মুক্ত।
Telecommunication, যোগাযোগ নিয়ে কাজকারবার। মোবাইল ফোন কোম্পানিতে মাঝের কয়েক বছর ইইই ইঞ্জিনিয়ারদের বিশাল চাহিদা ছিলো। আমাদের মত দেশে নতুন নতুন নেটওয়ার্ক, টাওয়ার, কভারেজ তৈরিসহ সমগ্র সিস্টেম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে আছে বিপুল সংখ্যক ইইই ইঞ্জিনিয়ার। শুধু এক Grameenphone এই এখন কাজ করছে প্রায় ৫ হাজার প্রকৌশলী, যার বেশিরভাগই ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ব্যাকগ্রাউন্ডের। যত নতুন নতুন টেকনোলজি আসবে, অত চাহিদা Expand করবে। যারা নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত Telecommunication Engineer হিসেবে দেখতে চাও, তাদের জন্য অবশ্যই EEE. Computer আসলে এমন এক ব্যাপার যাকে কোন কিছু থেকেই আলাদা করা যাবে না। ইইই থেকে পড়ে পরবর্তীতে Software Engineer হয়ে গিয়েছে এমন উদাহরনও আছে অনেক।
তুমি যদি প্রোগ্রামিং ভালো বোঝ, কম্পিউটারে ভালো দখল থাকে, তবে ইইই পড়েও তুমি খুব সহজেই CSE সাইডে Divert হতে পারো। যাকে যা suit করে আরকি!!! ইইই পড়েছ বলে যে তুমি প্রোগ্রামার হতে পারবে না বা সফটওয়্যার বানাতে পারবে না এমন ধারণা পুরোপুরি ভুল। তোমার যদি Electronics এর পাশাপাশি সফটওয়্যার নিয়েও ঘাটাঘাটি করতে ইচ্ছে করে তাহলে তুমি সহজেই ইইই নিতে পারো। এখানে এই সুযোগ প্রচুর।
চাকরির বাজার নিয়ে আমি কোন কথা বলবো না। শুধু বলবো EEE হলো একটা Everlasting Subject. যতদিন পৃথিবী টিকে থাকবে অতদিন এর ডিমান্ড কমবে না। দেশে থাকতে পারলে ভালো, যদি তা সম্ভব না হয়, তোমার জন্য আছে বাইরে যেয়ে পড়াশোনা করার অফুরন্ত ক্ষেত্র। দেশে বিদেশে সবজায়গাতেই তোমার সম্মানজনক অবস্থান থাকবে। চাকরি নেই, হাজার হাজার স্টুডেন্ট হয়ে গেছে, এমন শোনা কথায় কান দিতে যেয়ো না। তোমার যদি যোগ্যতা আর মেধা থাকে, তবে EEE পড়ে তোমাকে একদিনও বসে থাকতে হবে না। তুমি ঠিকই তোমার Deserving পজিশনে যেতে পারবে।
আর স্যালারি? এটাও বলবো না। ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই জানতে পারবে। আমার নিজের মতামত হলো স্যালারির উন্মাদনার চেয়ে বিষয়টার প্রতি আকর্ষন থেকেই ইইই তে আসা উচিত।
তোমাদের সবার জন্য রইলো শুভকামনা।
মূল লেখক-
শায়খুল ইসলাম
ইইই, বুয়েট – ২০১১
Subscribe to:
Comments (Atom)
What's New
Popular Posts
Awesome Video
EEE
Social Counter
Search This Blog
Blog Archive
- September 2017 (2)
- August 2017 (2)
Recent Posts
Comments
recentcomments
sponsor
Technology
Featured Posts
Recent Posts
Recent in Sports
Header Ads
.png)




